Showing posts with label সারাদেশ. Show all posts
Showing posts with label সারাদেশ. Show all posts

Sunday, November 19, 2023

১১ বছরেও চালু হয়নি তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাস

১১ বছরেও চালু হয়নি তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাস

 

১১ বছরেও চালু হয়নি তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রাবাস

খাগড়াছড়ি পানছড়ি উপজলার পানছড়ি বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস।-প্রতিদিনের সংবাদ

খাগড়াছড়ি পানছড়ি উপজেলায় নির্মাণের ১১ বছর পরও চালু করা হয়নি পানছড়ি বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসটি। ২০১১ সালে নির্মাণ করা ছাত্রাবাসটি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়। আবাসিক সুবিধা না পেয়ে ঝড়ে পড়ছে দুর্গম এলাকার খুদে শিক্ষার্থীরা। তাই দ্রুত ছাত্রাবাস চালুর দাবি করেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া থেকে ঠেকাতে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্মাণ করা হয় এ ছাত্রাবাসটি। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কমসূর্চির আওতায় ২০১১ সালে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে হোস্টেল নির্মাণ করা হলেও এখনো চালু করা যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছাত্রাবাসের প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে জং ধরা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ব্যাঞ্চ বাহিরে পড়ে আছে। অনেক জানালার গ্লাস ভাঙ্গা। ভেতরের কয়েকটি কক্ষে বড় আকারের ফাঁটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তার খসে পড়ছে। ছাত্রাবাসটি পেছনের বড় দেয়াল ধসে পড়েছে বসতবাড়ির টিনের ওপর। স্কুল প্রধান শিক্ষক জানান, ছাত্রাবাসে ৩০০ জন শিক্ষার্থী থাকার ব্যবস্থা আছে। আবাসিক সুবিধার অভাবে প্রাথমিকের অনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ছে। তাই দ্রুত ছাত্রাবাসটি চালুর দাবি জানান তিনি।

ছাত্রাবাসের দেয়াল ধসে পড়েছে কলনিপাড়ার বাসিন্দা আফিয়া খাতুনের বাড়ির ওপর। অফিয়া খাতুন বলেন, ‘গত তিন মাস আগে ছাত্রাবাসের বিশাল দেয়াল ধসে পড়ে আমার বাড়ির ওপর। এখন ভাড়া ঘরে থাকতে হচ্ছে। যে কোনো সময়ে ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি শিক্ষা অফিস এবং এলজিইডি অফিসে গিয়েছি কিন্তু কাজ হয়নি।’

পানছড়ি বাজার মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপাসা সরকার বলেন, ছাত্রাবাসটিতে কী জন্য জনবল নিয়োগ দিচ্ছে না বলতে পারি না। ভবনের পিছনের দিকে ধসে পড়েছে।

পানছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুজিত মিত্র চাকমা বলেন, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের পরিচালক এসেছেন। তাকে ছাত্রাবাসটি দেখানো হয়েছে। তিনি বলেছেন ‘এখানে কোনো লোকজন নেই। ছাত্র-ছাত্রীও নেই। আমরা সরকারের টাকা নষ্ট করব কেনো।’ তিনি এসব বলে চলে গেছেন। তিনি আরো বলেন, ৭৫ জন্য ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করার কথা। এখানে ৭৫ জন ভর্তি করবে। এখানে ১৪ জন নিয়োগ করার কথা। লোকই নিয়োগ হয়নি। এখানে ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তিও কোনো ব্যবস্থাও নেই। তাদের কে খাওয়াবে সকাল, বিকেল ও দুপুর। এই টাকাগুলো খরচ করারমত কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, ‘জনবলের সমস্যা না। জনবল নিয়োগ হতে পারবে। কিন্তু জনবলের বেতন কে দেবে। ডিপাটমেন্ট বলতেছে পিডিপির টু আমলের বিল্ডিং। হয়তো বা একটা সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’


লামায় ৪৫ মাসেও চালু হয়নি হাসপাতাল কার্যক্রম

লামায় ৪৫ মাসেও চালু হয়নি হাসপাতাল কার্যক্রম

 

লামায় ৪৫ মাসেও চালু হয়নি হাসপাতাল কার্যক্রম

ছবি: প্রতিদিনের সংবাদ

চিকিৎসক সহ অন্যান্য পদে লোকবল সংকটে প্রায় ৪৫ মাসেও চালু হয়নি বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র হাসপাতালটি। দুর্গম পাহাড়ের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল নিমার্ণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। পরে বান্দরবান পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীরবাহাদুর উশেসিং এমপি ২০২০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে এটি উদ্ভোধন করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সুসজ্জিত হাসপাতালটিতে রয়েছে, তিনতলা বিশিষ্ট দুটি ভবন, ডেলিভারি রুম, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ নানা পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি চালু হলে লামা উপজেলার সরই ও এর আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মহিলারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। কিন্তু এখনো চালু না হওয়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

উদ্বোধনের এতোদিন পার হলেও চালু না হওয়াতে ক্ষোভ জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা খালেদা আক্তার বলেন, আমরা স্থানীয় লোকজন হাসপাতালটার জন্য উদ্বোধনের আগে থেকেই অপেক্ষা করছি। কিন্তু উদ্বোধনের এতোদিন পরেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। মহিলাদের ডেলিভারির জন্য দূরে যেতে হয়। পাশাপাশি হতদরিদ্র মহিলাদের জন্য এটি ব্যয়বহুল।

উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জুবাইদা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ না হওয়াতে হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করা যাচ্ছে না। সব সংকট কাটিয়ে দ্রæত এটি চালু হবে এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ময়না বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশে হাসপাতালটি হওয়ায় খুব খুশি হয়েছিলাম। তবে অনেকদিন ধরে এটি পড়ে আছে, চালু হয়নি। চালু না হওয়ায় আমার প্রতিবেশী ফাতেমাকে পদুয়ায় গিয়ে ডেলিভারি করাতে হয়েছে।’

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস বলেন, গজালিয়া, আজিজনগর ও সরই ইউনিয়নের লক্ষাধীক চিকিৎসা প্রদানের জন্য ওই হাসপাতালটি নিমার্ণ হয়। তবে চালু না হওয়ায় প্রসূতিদের আমাদের পাশ্ববর্তী এলাকা চট্টগ্রামের লোহাগাড়া সদর অথবা পদুয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে গ্রামের দরিদ্র মানুষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার দুরবস্থার কারণে রোগীদের নিয়ে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।

লামা পরিবার পরিকল্পনা মেড়িকেল কর্মকর্তা ডা. বাপ্পী বলেন, উদ্ভোধন পর থেকে সিকিউটি গাড মো. শাসসুল আলম ভবনের অবকাঠামো পাহারায় রয়েছে। আমরা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিকে সাব সেন্টার দেখিয়ে কিছু ওষধপত্র মাসে দুইবার একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বান্দরবানের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা বলেন, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম কোনো রকম সচল রাখা হয়েছে।